বাংলাদেশ থেকে রোমানিয়ায় কাজ: ভিসা, পারমিট ও খরচ (২০২৬)

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগকারী ইউরোপের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠেছে রোমানিয়া। দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে শ্রমিকের ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছর রোমানিয়া সরকার অ-ইউরোপীয় কর্মীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট কোটা অনুমোদন করে। আপনি যদি একজন বাংলাদেশী ওয়েল্ডার, ড্রাইভার, নির্মাণ শ্রমিক, কারখানা কর্মী বা কেয়ারগিভার হন, তবে রোমানিয়া যাওয়া আপনাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আইনিভাবে উপার্জনের সুযোগ দেয়।
তবে, আইনি প্রক্রিয়ায় রোমানিয়ায় যাওয়ার জন্য ধৈর্য এবং সঠিক নিয়মাবলী কঠোরভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন। দূতাবাসে প্রসেসিং হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে, এবং বাংলাদেশের অবৈধ দালালরা প্রায়ই মোটা অঙ্কের এজেন্সি ফি দাবি করে থাকে। ধাপে ধাপে সঠিক প্রক্রিয়াটি জানা থাকলে আপনার টাকা নিরাপদ থাকবে এবং আবেদন প্রক্রিয়া সুরক্ষিত থাকবে।
আইনি উপায়: ওয়ার্ক পারমিট এবং টাইপ ডি ভিসা
প্রকৃত চাকরির অফার না থাকলে আপনি নিজে থেকে রোমানিয়া ওয়ার্ক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না। পুরো আইনি প্রক্রিয়াটি আপনার রোমানিয়ার নিয়োগকর্তার প্রাথমিক আবেদনের ওপর নির্ভর করে।
- ধাপ ১: ওয়ার্ক অথরাইজেশন (Aviz de angajare) - রোমানিয়ায় আপনার নিয়োগকর্তাকে জেনারেল ইন্সপেক্টরেট ফর ইমিগ্রেশন (Inspectoratul General pentru Imigrări বা IGI) থেকে এই ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে। তাদের প্রমাণ করতে হবে যে পদটি প্রথমে স্থানীয়ভাবে বিজ্ঞাপিত হয়েছিল এবং আপনার মধ্যে প্রয়োজনীয় দক্ষতার যোগ্যতা রয়েছে। এই অনুমতিপত্র পেতে আনুমানিক ৩০ থেকে ৬০ দিন সময় লাগে।
- ধাপ ২: কাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ভিসা (Type D/AM) - নিয়োগকর্তা মূল ওয়ার্ক অথরাইজেশন দলিলটি পাওয়ার পর তা বাংলাদেশে আপনার কাছে পাঠাবেন। এরপর আপনি ঢাকায় রোমানিয়া দূতাবাসে কাজের জন্য জাতীয় দীর্ঘমেয়াদী ভিসার (Viza de lungă ședere pentru angajare în muncă, যা Type D/AM হিসেবে চিহ্নিত) আবেদন করবেন।
- ধাপ ৩: রেসিডেন্স পারমিট (Permis de ședere) - রোমানিয়ায় পৌঁছানোর পর, আপনার নিয়োগকর্তা আপনাকে স্থানীয় ইমিগ্রেশন অফিসে নিবন্ধন করতে সাহায্য করবেন যাতে আপনি সাময়িক রেসিডেন্স কার্ড পান। এটি আপনাকে সেখানে আইনিভাবে থাকার ও কাজ করার অনুমতি দেয়।
বাংলাদেশে আপনার আবেদন কোথায় জমা দেবেন
বাংলাদেশের নাগরিকরা তাদের ভিসার আবেদন সরাসরি ঢাকার রোমানিয়া দূতাবাসের কনস্যুলার সেকশনে জমা দেন। আপনাকে প্রথমে অফিসিয়াল রোমানিয়ান ভিসা পোর্টালের (eViza) মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে এবং আপনার কাগজপত্র আপলোড করতে হবে।
আপনার অনলাইন আবেদনটি পর্যালোচনা করে সাক্ষাতকারের জন্য অনুমোদিত হলে, আপনি একটি অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ পাবেন। আপনার মূল কাগজপত্র জমা দেওয়া, বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ ও ছবি) প্রদান করা এবং অফিসিয়াল ভিসা ফি পরিশোধের জন্য আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে ঢাকার রোমানিয়া দূতাবাসে উপস্থিত হতে হবে। আবেদনের সংখ্যা অনেক বেশি থাকায়, অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ পেতে আনুমানিক ৪ থেকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, তাই সময় পরিকল্পনা সাবধানে করুন।
বাংলাদেশী আবেদনকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ভিসা অনুমোদনের জন্য সঠিক ও নির্ভুল কাগজপত্র প্রস্তুত করা অত্যন্ত জরুরি। যেকোনো মিথ্যা তথ্য অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞার কারণ হতে পারে। আপনাকে যা জমা দিতে হবে:
- মূল ওয়ার্ক অথরাইজেশন - রোমানিয়ার IGI কর্তৃক ইস্যুকৃত এবং আপনার নিয়োগকর্তার দেওয়া অফিসিয়াল Aviz de angajare দলিল।
- মেয়াদ থাকা পাসপোর্ট - আপনার ভ্রমণের সম্ভাব্য তারিখ থেকে বাংলাদেশ পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ মাস থাকতে হবে এবং অন্তত দুটি খালি পাতা থাকতে হবে।
- স্বাক্ষরিত কর্মসংস্থান চুক্তি - একটি স্পষ্ট চুক্তিপত্র যেখানে আপনার কাজের ধরন, কর্মঘণ্টা, মূল বেতন, থাকার ব্যবস্থা এবং ডিউটির সময়সূচী উল্লেখ থাকবে।
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট - বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক ইস্যুকৃত। এই দলিলটি ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOFA) কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে এবং একজন স্বীকৃত অনুবাদক দ্বারা রোমানিয়ান বা ইংরেজিতে অনুবাদ করাতে হবে।
- মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট - বাংলাদেশের একটি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে প্রাপ্ত স্বাস্থ্য প্রতিবেদন, যা প্রমাণ করে যে আপনি যক্ষ্মা বা হেপাটাইটিসের মতো সংক্রামক ব্যাধি থেকে মুক্ত।
- থাকার ব্যবস্থার প্রমাণ - আপনি রোমানিয়ায় কোথায় থাকবেন (যেমন কোম্পানির আবাসন বা ভাড়া করা ফ্ল্যাট) সে বিষয়ে আপনার নিয়োগকর্তার দেওয়া দলিল।
- ফ্লাইট বুকিং এবং ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স - সাময়িক ফ্লাইট বুকিং এবং প্রাথমিক প্রবেশের সময়কালের জন্য বৈধ ভ্রমণ স্বাস্থ্য বীমা।
অফিসিয়াল ফি এবং বাংলাদেশে প্রকৃত খরচ
সরকারী ফি এবং আপনার ব্যক্তিগত প্রস্তুতিমূলক খরচের মধ্যে পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোমানিয়া এবং পুরো ইইউ জুড়ে, আপনার ওয়ার্ক পারমিট এবং নিয়োগ সংক্রান্ত খরচ বহন করার জন্য নিয়োগকর্তারা আইনত বাধ্য।
সরকারী এবং কনস্যুলেটের অফিসিয়াল ফি:
- কনস্যুলার ভিসা ফি - টাইপ ডি দীর্ঘমেয়াদী ওয়ার্ক ভিসার জন্য অফিসিয়াল ফি আনুমানিক ১২০ ইউরো (প্রায় ১৫,০০০ টাকা), যা অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় দূতাবাসে পরিশোধযোগ্য।
- ওয়ার্ক পারমিট ফি (নিয়োগকর্তার অংশ) - আপনার নিয়োগকর্তা সরাসরি রোমানিয়ায় Aviz de angajare-এর জন্য সরকারী ফি পরিশোধ করেন। আপনার কাছে কখনোই এই ফি চাওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশে আপনার ব্যক্তিগত খরচ:
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এবং সত্যায়ন - সনদপত্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়নের জন্য আনুমানিক ১,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা (প্রায় ৮ থেকে ২৫ ইউরো)।
- মেডিকেল পরীক্ষা - অনুমোদিত ক্লিনিকে আনুমানিক ৬,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা (প্রায় ৪৫ থেকে ৯০ ইউরো)।
- কাগজপত্র অনুবাদ এবং নোটারী - পৃষ্ঠার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে আনুমানিক ৩,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা (প্রায় ২২ থেকে ৬০ ইউরো)।
- রোমানিয়ার একমুখী বিমান টিকিট - আনুমানিক ৬৫,০০০ থেকে ১১০,০০০ টাকা (প্রায় ৫০০ থেকে ৮৫০ ইউরো), যদি না আপনার চুক্তিতে উল্লেখ থাকে যে নিয়োগকর্তা বিমান ভাড়া বহন করবেন।
অবৈধ এজেন্সি ফি সম্পর্কে সতর্কতা: ঢাকার অনেক দালাল এবং অসাধু রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি "প্রসেসিং ফি" বা "গ্যারান্টিড ভিসা"-র নামে ৫,০০,০০০ থেকে ১০,০০,০০০ টাকা দাবি করে। কাজের বিনিময়ে কর্মীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া ইউরোপীয় মানদণ্ড এবং রোমানিয়ান নিয়মের পরিপন্থী। চাকরির অফারের জন্য দালালদের টাকা দিতে কখনোই জমি বিক্রি করবেন না বা চড়া সুদে ঋণ নেবেন না।
রোমানিয়ায় যেসব পেশার চাহিদা বেশি
রোমানিয়া বর্তমানে তার অবকাঠামো এবং সেবা খাতের প্রসারে আন্তর্জাতিক শ্রমশক্তির ওপর নির্ভর করছে:
- নির্মাণ শ্রমিক ও রাজমিস্ত্রি - সিভিল কনস্ট্রাকশন কোম্পানিগুলো নগরায়ন ও আবাসন প্রকল্পের জন্য নির্মাণ শ্রমিক, কাঠমিস্ত্রি এবং রাজমিস্ত্রি নিয়োগ করছে।
- ওয়েল্ডার ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফেব্রিকেটর - শিপইয়ার্ড, যানবাহন সংযোজন কারখানা এবং স্টিল স্ট্রাকচার কারখানাগুলো বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সার্টিফাইড MIG/TIG ওয়েল্ডার নিয়োগ করে থাকে।
- ওয়্যারহাউস হ্যান্ডলার ও কমার্শিয়াল ড্রাইভার - লজিস্টিক হাবগুলোর জন্য ফর্কলিফ্ট ড্রাইভার, প্যাকার এবং বৈধ আন্তর্জাতিক লাইসেন্সধারী ভারী যান চালক প্রয়োজন।
- হসপিটালিটি ও কিচেন স্টাফ - পর্যটন কেন্দ্র ও বড় শহরগুলোর হোটেল এবং রেস্তোরাঁগুলোতে লাইন কুক, কিচেন হেল্পার এবং রুম অ্যাটেনডেন্ট নিয়োগ করা হয়।
ভুল ধারণা বনাম বাস্তবতা
ভুল ধারণা: আপনি ট্যুরিস্ট ভিসায় রোমানিয়ায় প্রবেশ করতে পারেন এবং কোনো মালিক খুঁজে পেলে আইনিভাবে কাজ শুরু করতে পারেন।
বাস্তবতা: ট্যুরিস্ট ভিসায় কাজ করা রোমানিয়ায় সম্পূর্ণ অবৈধ। আপনি বাংলাদেশে থাকা অবস্থাতেই আপনাকে অফিসিয়াল ওয়ার্ক পারমিট পেতে হবে এবং টাইপ ডি ওয়ার্ক ভিসায় সেখানে যেতে হবে।
ভুল ধারণা: ঢাকার কোনো এজেন্সিকে মোটা অঙ্কের টাকা দিলে রোমানিয়ার ভিসা নিশ্চিত পাওয়া যায়।
বাস্তবতা: কেবল ঢাকার রোমানিয়ান দূতাবাসই ভিসা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেয়। কোনো এজেন্টকে অতিরিক্ত টাকা দিলেই কনস্যুলেট ভিসা দিতে বাধ্য হয় না, বরং এটি প্রায়ই প্রতারণার দিকে নিয়ে যায়।
ভুল ধারণা: রোমানিয়ার ওয়ার্ক ভিসা পেয়ে গেলে আপনি অবিলম্বে জার্মানি বা ফ্রান্সের মতো পশ্চিম ইউরোপের যেকোনো দেশে গিয়ে কাজ করতে পারবেন।
বাস্তবতা: রোমানিয়ান ওয়ার্ক পারমিট এবং রেসিডেন্স কার্ড কেবল রোমানিয়ার ভেতরে নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করার অনুমতি দেয়। স্থানীয় ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া অন্য কোনো সেনজেন দেশে কাজ করা অবৈধ।
ভুল ধারণা: ট্রেড জব বা কারিগরি কাজের জন্য ইংরেজি বা রোমানিয়ান ভাষা জানার প্রয়োজন নেই।
বাস্তবতা: সাধারণ কাজের জন্য পুরোপুরি দক্ষ হওয়ার প্রয়োজন না হলেও, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নির্দেশাবলী বুঝতে এবং সুপারভাইজারদের সাথে যোগাযোগ করতে মৌলিক ইংরেজি বা প্রাথমিক রোমানিয়ান ভাষা জানা অত্যন্ত জরুরি।
চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আগে
যেকোনো চাকরির অফারে সম্মত হওয়া বা ইউরোপে ভ্রমণের আগে এই নিরাপত্তা চেকলিস্টটি দেখে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন:
- নিয়োগকর্তার নাম যাচাই করুন - আপনার চুক্তিতে থাকা কোম্পানির নাম রোমানিয়ায় ইস্যুকৃত অফিসিয়াল Aviz de angajare ওয়ার্ক পারমিটের নামের সাথে মিলছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।
- বেতন এবং কর্মঘণ্টা পরীক্ষা করুন - রোমানিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী আপনার মূল বেতন, ওভারটাইম পে এবং দৈনিক কর্মঘণ্টা চুক্তিতে স্পষ্ট লেখা আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।
- থাকার ব্যবস্থার বিবরণ নিশ্চিত করুন - থাকার ব্যবস্থা বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে, ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে নাকি বেতন থেকে কাটা হচ্ছে তা পরীক্ষা করুন এবং বসবাসের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও আইনি কিনা তা নিশ্চিত করুন।
- আপনার মূল পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখুন - "হেফাজতে রাখার" জন্য আপনার মূল পাসপোর্ট কখনোই কোনো এজেন্ট বা নিয়োগকর্তার হাতে তুলে দেবেন না - আপনার পাসপোর্ট আপনার ব্যক্তিগত সম্পত্তি।
- খাবার ও পরিবহন ভাতা যাচাই করুন - ডিউটি মিল বা কর্মস্থলে যাওয়ার পরিবহন খরচ কোম্পানি বহন করছে কিনা তা পরীক্ষা করে নিন।
Workuro-তে পরবর্তী পদক্ষেপ নিন
রোমানিয়ার যাচাইকৃত নিয়োগকর্তাদের নজর কাড়তে Workuro-তে একটি সম্পূর্ণ প্রোফাইল তৈরি করুন। আপনার নির্দিষ্ট কারিগরি দক্ষতা, সার্টিফাইড ভোকেশনাল ট্রেনিং, মেশিন লাইসেন্স এবং বাংলাদেশে বা বিদেশে কাজের অভিজ্ঞতা তালিকাভুক্ত করুন। আপনার ভাষার দক্ষতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন এবং আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আপনার পাসপোর্ট তৈরি আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। কর্মীদের জন্য Workuro সম্পূর্ণ বিনামূল্যে - নিয়োগকর্তারা নিবন্ধনে খোঁজার জন্য ফি প্রদান করেন, তাই চাকরির জন্য আপনার কাছ থেকে কেউ টাকা নিতে পারবে না।
নিয়োগকর্তাদের নজরে আসতে প্রস্তুত?
২ মিনিটে আপনার প্রোফাইল তৈরি করুন। ফ্রি, কোনো ক্রেডিট কার্ড লাগবে না।
